কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় তরুণ ছাত্রদল নেতা এইচ এম মোমেন ভূইয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি তিনি নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এ নিয়োগের পরপরই একটি কুচক্রী মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও পুরোনো ছবি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা (বাদলাপাড়া) গ্রামের স্থানীয়রা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা একে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জানা যায়, পিএ হিসেবে মোমেন ভূইয়ার নাম ঘোষণার পরপরই স্বার্থান্বেষী একটি মহল ফেসবুকে তার কিছু পুরোনো ছবি ব্যবহার করে বিকৃত প্রচারণা শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, এই ছবিগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার সুনাম ক্ষুন্ন করতে এগুলো ছড়ানো হচ্ছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোমেন ভূইয়া অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাদিস উদ্দিন ভূইয়ার সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি মেধাবী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। কবিতা ও শিশুসাহিত্যচর্চার পাশাপাশি তিনি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমেও সক্রিয়।
২০১৯ সালে ‘কল্যাণী যুব ফাউন্ডেশন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। করোনা মহামারির দুঃসময়ে এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময়ের মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কিছু ছবিকেই বর্তমানে বিকৃত করে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
শিক্ষাজীবনেও মোমেনের রয়েছে ধারাবাহিক সাফল্য। তিনি ২০১৬ সালে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে আশুজিয়া বানেটেক কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। সম্প্রতি ২০২৫ সালে গ্রীন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে অনার্স (এলএলবি) সম্পন্ন করেছেন এই তরুণ নেতা।
মোমেন ভূইয়ার বিরুদ্ধে সাইবার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। মোজাফরপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন সবুজ বলেন, “মোমেন ভূইয়া ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। কিছু ছবি ব্যবহার করে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি হাদিস মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তাদের পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন হারুনুর রশিদ, আহম্মদ আলী মাস্টার, রেজাউল, মুখলেছুর রহমান, দুলাল মিয়া ও হাজী আতিকুল রহমান, এ ষড়যন্ত্রের দ্রুত অবসান চেয়েছেন। তারা অবিলম্বে সাইবার অপপ্রচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।


