শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় শুক্রবার সন্ধ্যায় আঘাত হানা আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে এবং পল্লী বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বর্তমানে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার ঠিক আগে হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল বেগে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে এবং অনেক গাছ উপড়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে রাস্তার ওপর পড়ায় বেশ কিছু সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের স্থায়ীত্ব খুব বেশি না হলেও এর তীব্রতা ছিল প্রচণ্ড ধ্বংসাত্মক।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ খাত। ঝোড়ো হাওয়ায় পল্লী বিদ্যুতের অসংখ্য খুঁটি হেলে পড়েছে এবং অনেক জায়গায় সঞ্চালন লাইনের তার ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে কলমাকান্দা সদরসহ লেংগুড়া, পোগলা, রংছাতি, খারনৈ ও বড়খাপন ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা নামার পরপরই পুরো এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং বন্ধ হয়ে গেছে পানি সরবরাহের পাম্পগুলো। ফলে দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ ও যোগাযোগে চরম সংকট তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিদ্যুৎহীন অবস্থায় শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে তারা অসহনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে কলমাকান্দা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোজ্জামেল হক জানান, “ঝড় থামার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কর্মীরা মেরামতের কাজে মাঠে নেমেছে। বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি খুঁটি উপড়ে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।”
এদিকে, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।



