নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টাব্যাপী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ি ও গাছপালা।
এতে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুর্গাপুর পৌরশহরের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ববাগিচা পাড়া এলাকার বিধবা আছমা খাতুন। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন আছমা ও তাঁর পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ে আছমা খাতুনের ঘরের ওপর একটি জামগাছ উপড়ে পড়ে। এতে তার মাটির দেয়ালের ঘরটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সেই মুহূর্তে ঘরে থাকা নাতি ও অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
আছমা খাতুন বলেন, “স্বামীর মৃত্যুর পর মাইনষের বাড়িত কাম কইরা খাই। প্রতিবেশীদের সাহায্যে ঘরটা বানাইছিলাম, আজ হেইডাও ভাইঙ্গা গেল। রাইতটা কই থাকবাম জানি না।”
ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বড় বড় অনেক ফলদ ও বনজ গাছ উপড়ে পড়ায় চলাচলের পথেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আছমা খাতুনের পাশে দাঁড়ান উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার। তিনি নগদ অর্থ ও শুকনা খাবার আছমার পরিবারের হাতে তুলে দেন এবং সমাজের বিত্তবানদের এই অসহায় পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে দুর্গাপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি প্রশাসন অবগত আছে।
শনশনতিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত আছমা খাতুনের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরণের সহায়তা প্রদান করব। ভেঙে পড়া গাছটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, আছমা খাতুন অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় সরকারিভাবে যেন তার ঘরটি পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হয়, যাতে তিনি তার সন্তান ও নাতি নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই ফিরে পান।



