জলঢাকা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১০ জনকে নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জসিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মশিনুর রহমান (৩৮)।
অভিযোগে বলা হয়েছে গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে উপজেলার গোপালঝাড় চরভরট এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দীকের ছেলে প্রবাসী সাদেক হোসেন এবং তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মশিনুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তারা বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং আলমারিতে রাখা নগদ প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা, একটি ডায়মন্ড সেট, স্বর্ণালঙ্কার, জমির গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক কাগজপত্র ও ব্যাংকের চেকসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাড়ির উঠানে বাঁধা থাকা ১১টি গরু ও ৯টি ছাগলও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মশিনুর রহমানের মা রশিদা বেগম (৫৮) বলেন, হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করে এবং তার সামনেই বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানান। অভিযোগকারী মশিনুর রহমান বলেন, প্রতিপক্ষের হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি দাবি করেন, প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযোগ দায়েরের এক সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত লুট হওয়া কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাদেক হোসেনে অভিযোগ অস্বীকার করে, ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানিনা বলে জনান। তবে অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমিও কিছুই জানি না।
এ বিষয়ে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু মুসা বলেন, ঘটনার দিন সকালে চর ভরট এলাকার কিছু মানুষ গরু ও ছাগল নিয়ে যেতে দেখেছি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে চৌকিদারকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। তবে চৌকিদার পৌঁছানোর আগেই তারা সেখান থেকে চলে যায়। এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমূল আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


