মাহমুদুল হাসান মান্না, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাওন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি কায়েস (১৬) ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উদ্ধার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাওন উপজেলার পদমশ্রী ভুইয়াটি গ্রামের দুলাল ভুইয়ার ছেলে এবং জাহাঙ্গীরপুর তহুরা আমিন সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। সে তার মামাবাড়ি থেকে পড়াশোনা করত। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়িতে আসা শাওন গত সোমবার বিকেলে কদমশ্রী বাজারে তার দাদার দোকানে বসা ছিল। বন্ধুদের ফোন পেয়ে সে দোকান থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি।
পরদিন সোমবার সকালে রৌহা হাওরের একটি ফসলি জমি থেকে শাওনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে রিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তৎপরতা ও গ্রেপ্তার হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযানে নামে মদন থানা পুলিশ। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে মদন সদর ইউনিয়নের কুলিয়াটি গ্রাম থেকে প্রধান আসামি কায়েসকে আটক করা হয়। কায়েস উপজেলার চানগাঁও ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের সাস্তন মিয়ার ছেলে।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা প্রধান আসামি কায়েস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাকে বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। এবং আরও একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং অপর একজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে তাকেও আদালতে পাঠাবে। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাংশু কুমার জানান, স্কুলছাত্র শাওন হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি কায়েস স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকিদের আইনের আওতায় আনতে আমরা তৎপর রয়েছি।
