আশরাফুল:
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নির্বাচনী সহিংসতায় আজও প্রকাশ্যে একজন কে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নাগালের বাহিরে চলে গেছে। দুপুরে খুলনা থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি এলাকা ঘুরে যাওয়ার পরপরই এই হত্যাকান্ড ঘটল একই ইউনিয়নে। সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাংচুর আর লুটপাট চলছে গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বৃদ্ধ কে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সেই রক্তের দাগ শুকাতে না শুকাতেই আজ শনিবার বিকালে আবারো এক যুবক কে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে একই এলাকায়। ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সারুটিয়া ইউনিয়নে নির্বাচনপূর্ব এমন বর্বরতা আর নৃশংসতা চলছে। পরপর দুদিনই খুন হওয়া দু ব্যাক্তি আওয়ামীলীগের মনোনিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুনের সমর্থক।
প্রসঙ্গত,৬নং সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ী বাজারের আধিপত্য নিয়ে শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহমুদুল হাসান মামুন ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলফিকার কায়সার টিপুর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে মামুনের সমর্থক হারান মন্ডল নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়। এ খুনের ২০ ঘন্টা যেতে না যেতেই মামুনের সমর্থক জসিম ছুরিকাঘাতে নিহত হলো । হারানের বাড়ি সারুটিয়ার নাদপাড়া আর জসিমের বাড়ি একই ইউনিয়নের ভাটবাড়িয়া গ্রামে।
এমন অব্যহত খুন আর নৈরাজ্যে সাধারণ ভোটার,ব্যবসায়ী আর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে অনেকে ।
এদিকে গতকালের খুনের ঘটনায় খুলনা থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি নজরুল ইসলাম আজ দুপুরে কাতলাগাড়ি বাজারে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ডিবিসি নিউজ কে জানান, ভোটারদের আশ্বস্ত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় রিজার্ভ ফোর্স রয়েছে, দু এক দিনের ভেতরে আরো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
আগামী ৫ জানুয়ারী ঝিনাইদহের শৈলকুপার ১২ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচন কে কেন্দ্র করে ১২ টি ইউনিয়নেই সহিংসতা চলছে।

