নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানোর মধ্য দিয়ে নেত্রকোনা জেলায় উদযাপিত হয়েছে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। দীর্ঘ সময় পর এবার দিবসটি ঘিরে জেলাজুড়ে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উন্মাদনা। শনিবার (৭ নভেম্বর) জেলা সদর, দুর্গাপুর এবং পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে পৃথক আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। সব আয়োজনেরই মূল সুর ছিল- জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা।
জেলা সদরে বর্ণাঢ্য আয়োজন
শনিবার সকালে জেলা শহরের পাবলিক হলে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় এক সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম ও পারস্পরিক সম্প্রীতি ধারণ করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তারা। আলোচনা শেষে শিশুদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন অতিথিরা।
দুর্গাপুরে জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও চেতনা স্মরণ
দিবসটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো দিনটি পালন করে। বেলা ১১টায় স্থানীয় জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল ইসলাম আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টারের সঞ্চালনায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইমাম হাসান আবুচান, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেজ গনিসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন তৎকালীন সেনাপ্রধান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও জাতীয়তাবাদী আদর্শ দেশের ইতিহাসে অমলিন। নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং তৃণমূল মানুষের আস্থা অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পূর্বধলায় নতুন প্রজন্মের মাঝে ইতিহাস চর্চার তাগিদ
দীর্ঘ ১৭ বছর পর জাতীয় দিবসটির সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় পূর্বধলা উপজেলার অনুষ্ঠানে। সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম।
ইউএনও তার বক্তব্যে বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের মধ্য দিয়েই দেশপ্রেম তৈরি হয়। উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকির কথা জানান তিনি। সভায় পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান ফকির, এমএ মান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ তালুকদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে উত্তর পূর্বধলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাকিয়া সুলতানা, দ্বিতীয় হয় পূর্বধলা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইসরাত জাহান তুরিণ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে ইলাশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কৌশিক সরকার।
সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দিকনির্দেশনা এবং শিশু-কিশোরদের পদচারণায় নেত্রকোনা জেলার দিনব্যাপী এ আয়োজনগুলো হয়ে ওঠে ইতিহাস চর্চা ও জাতীয় ঐক্যের অনন্য মেলবন্ধন।


