নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। কুয়াশাভেজা বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ সড়কের নীরবতা ভেঙে আচমকা ছুটে চলছে একটি পিকআপ ভ্যান, আর তার পেছনে পুলিশের ধাওয়া। শেষমেশ পুলিশের তৎপরতার কাছে হার মানতে হলো চোরাকারবারিদের। পিকআপ থামাতেই বেরিয়ে এলো আসল রহস্য। সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে আনা ১৭টি ভারতীয় ষাঁড় ও বাছুরের পাশাপাশি মিলল সেগুলোকে বৈধ দেখানোর এক অভিনব প্রতারণার প্রমাণ- ভুয়া রশিদ বই।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে আনা ১৭টি গরুসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ সড়কের উত্তরাইল বাজার ও দয়ালবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় গরু পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও ভুয়া রশিদ বই জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- দুর্গাপুর উপজেলার ফুলপুর গ্রামের পারভেজ মিয়া (২৫) ও চারিখাল গ্রামের মো. হানিফ (৩০), পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর এলাকার রামপুর গ্রামের জাহিদ হাসান রাসেল (৩০) এবং নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার বীরকান্দি গ্রামের আফসার উদ্দিন (৩৪) ও একই গ্রামের ইয়াসিন মিয়া (২২)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে দয়ালবাড়ী এলাকায় ধাওয়া করে গরুবোঝাই পিকআপসহ প্রথমে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে নাজিরপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জাহিদ হাসান রাসেলের সহযোগিতায় সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আনতেন। এরপর নাজিরপুর বাজারের নামে ভুয়া খাস আদায়ের রশিদ ব্যবহার করে কৌশলে বিভিন্ন এলাকায় এসব গরু বিক্রি করে আসছিলেন তারা।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, জব্দকৃত ১৭টি ভারতীয় ষাঁড়-বাছুরের আনুমানিক বাজারমূল্য সাত লাখ ৫৪ হাজার টাকা। গরু পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটিও জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় গরু সংগ্রহ, অবৈধভাবে সংরক্ষণ এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে জাল রশিদ ব্যবহারের অপরাধে গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের পর শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।


