আরিফ শেখ, রংপুর প্রতিনিধঃ
রংপুরের তারাগঞ্জে বহুল আলোচিত সেই ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো ফিরোজ হোসেন এবং তার সহযোগী আসামিদের নারী নির্যাতন মামলায় জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার বাদিনী কারমিনা আক্তার কাকলী যিনি স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিয়ে নিজ বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে সংগ্রাম করে দিন কাটাচ্ছিলেন।
কিন্তু সমাজের একশ্রেণির সুবিধাবাদী মানুষ কীভাবে অসহায়ত্বকে পুঁজি করতে চায়, তার চরম এক নিষ্ঠুর নজির তৈরি হয় এই মামলায়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কর্মরত ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট ফিরোজ হোসেন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই গৃহবধূকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন সহায়তার আশায় বাদিনী বিষয়টি স্থানীয় রেহেনা বেগমের শরণাপন্ন হন।
কিন্তু ন্যায়বিচার বা সহযোগিতার বদলে রেহেনা উল্টো ওই নারীকে তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামীকে তালাক দিয়ে অভিযুক্ত ফিরোজকে বিয়ে করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। কেবল মৌখিক কুপ্রস্তাব দিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি অভিযুক্তরা; পরবর্তীতে গভীর ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশের মাধ্যমে কৌশলে ওই নারীকে ডেকে এনে শারীরিক নির্যাতনেরও অপচেষ্টা চালানো হয় বলে এজাহারে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে।
একজন সরকারি দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় তারাগঞ্জজুড়ে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছিল এই অনৈতিকতার প্রতিবাদ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং নানা লুকোচুরির অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মামলার তিন আসামি প্রধান অভিযুক্ত মো. ফিরোজ হোসেন, মোছা. রেহেনা এবং মো. দুলাল হোসেনকে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ সশরীরে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালতের বিচারক এজাহার ও ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আসামিদের সেই জামিন আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করেন। আদালত তাদের জামিন না দিয়ে সোজা জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।


