নিজস্ব প্রতিবেদক | The Mail BD
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন সহজ করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং এ খাতে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে অধ্যাদেশটি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে খসড়াটি অনুমোদন পায়। তবে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে অধ্যাদেশটি জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী গ্রীষ্মের আগে দেশে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাও এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
দুই মডেলে হবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প
প্রস্তাবিত কাঠামোয় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপারেশনাল এক্সপেনডিচার (ওপেক্স) ও ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার (ক্যাপেক্স)—দুই ধরনের মডেল রাখা হয়েছে।
ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী বা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের খরচ বহন করবে এবং চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ক্যাপেক্স মডেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে পারবে।
সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোম্পানির ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। নিজস্ব আয় রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্যাপেক্স মডেলেও ব্যবস্থা স্থাপনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
কেন প্রয়োজন নতুন অধ্যাদেশ?
বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় দীর্ঘমেয়াদি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ, ছাদ ব্যবহারের বিনিময়ে অর্থ বা বিদ্যুতের অংশ প্রদান এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিধানের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ওপেক্স মডেলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ক্যাপেক্স মডেলে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও সেবা গ্রহণের বিষয়েও বিদ্যমান আইনে সুস্পষ্ট বিধানের অভাব রয়েছে। প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিনিয়োগ, চুক্তি, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগানোর সুযোগ বাড়বে। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ, কার্যকর চুক্তি এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।


