নিজস্ব প্রতিবেদক | The Mail BD
ঢাকার রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন পরিচিত ও প্রভাবশালী এক নাম। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তাঁর সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে এসেছেন ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। পারিবারিক পরিচয়ের পাশাপাশি শিক্ষা, সাংগঠনিক তৎপরতা, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকায় জন্ম নেওয়া ইশরাক হোসেন রাজধানীর স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল সম্পন্ন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষা নেন। পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে তিনি ব্যবসা ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। তবে তাঁর পরিচিতির বড় অংশ গড়ে ওঠে রাজনীতিকে কেন্দ্র করে।
বাবা সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যুর পর ইশরাক বিএনপির রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দৃশ্যমানভাবে বাড়তে থাকে। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মসূচি, জনসংযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন।
ইশরাকের রাজনৈতিক পরিচিতি বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হওয়ার পর। ওই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি। তবে ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যান। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ওই নির্বাচনের ভিত্তিতে মেয়র ঘোষণা করেন। যদিও মেয়র হিসেবে তাঁর শপথ নেওয়া হয়নি, এ ঘটনা তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
এরপর জাতীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠার আরেকটি বড় সুযোগ আসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি এলাকার অংশ নিয়ে গঠিত এ আসনে তাঁর নির্বাচনী প্রচারে জলাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, মাদক ও নাগরিক নিরাপত্তার মতো স্থানীয় সমস্যা গুরুত্ব পায়।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিচিতি থেকে জাতীয় সংসদ ও সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে পৌঁছান তিনি। তবে ১৯ অক্টোবর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী ও দলকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে না ফেলতে তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। তিনি বিএনপির কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন।
ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক যাত্রায় পারিবারিক উত্তরাধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং ঢাকা-৬ আসনে জয় তাঁর রাজনৈতিক পথচলার উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পুরান ঢাকার নাগরিক সমস্যা নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন এবং সংসদে এলাকার মানুষের দাবি তুলে ধরার মধ্য দিয়েই আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন হবে।
সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক স্মৃতি ও পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত থেকে ইশরাক হোসেন এখন নিজের প্রজন্মের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। তাঁর সামনে রয়েছে সেই পরিচিতিকে জনসেবা, কার্যকর প্রতিনিধিত্ব এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে আরও দৃঢ় করার সুযোগ।


