আন্তর্জাতিক ডেস্ক | The Mail BD
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় বিক্ষোভের আগে প্রায় ২৩ হাজার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ এবং কয়েকটি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) দিল্লির যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। কর্মসূচিতে কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি।
২৩ হাজার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন
বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২২১টি কোম্পানি মোতায়েনের ব্যবস্থা করেছে। এতে প্রায় ২৩ হাজার সদস্য রয়েছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য সমাগম এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ
নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, নয়াদিল্লি, প্যাটেল চক, জনপথ, আইটিও, দিল্লি গেট, খান মার্কেট ও কাশ্মীরি গেট। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হতে পারে।
বাতিল কয়েকটি ট্রেন, সতর্কতায় প্রতিবেশী রাজ্য
বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলেও। শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল—এমন কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের স্টেশনে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের সময়সূচি ও চলাচলের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দিল্লির প্রতিবেশী উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা রাজ্যকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। রাজধানীতে প্রবেশের বিভিন্ন পথেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কেন এই বিক্ষোভ?
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নতুন করে এই কর্মসূচি সামনে এসেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি। অন্যদিকে, সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও বিক্ষোভের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নিরাপত্তাব্যবস্থা, গণপরিবহনে বিধিনিষেধ এবং বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।


