ঢাকা, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | নিজস্ব প্রতিবেদক
রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এক মাসের জন্য পূর্ণ প্রশাসনিক ক্ষমতা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ চেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। দায়িত্ব পেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে টিকিট কালোবাজারি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ প্রস্তাব দেন মাহবুব কবীর মিলন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্ধারিত এক মাসে কাজের জন্য কোনো পদ-পদবি, আলাদা দপ্তর বা পারিশ্রমিক প্রয়োজন হবে না। তবে যাতায়াতের জন্য একটি গাড়ি চেয়েছেন তিনি।
যেভাবে বন্ধ করতে চান টিকিটের কালোবাজারি
মাহবুব কবীর মিলন তাঁর প্রস্তাবে জানিয়েছেন, দায়িত্ব পেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। টিকিটের অনিয়ম বন্ধে অভিজ্ঞ ও সৎ অবসরপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কাজে যুক্ত করার কথা বলেছেন। তাঁর পরিকল্পনায় কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্রেনের সব যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা না করে প্রতিটি বগিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাত্রীদের পরিচয় ও টিকিট যাচাই করা হবে। টিকিটে উল্লেখিত পরিচয়ের সঙ্গে যাত্রীর পরিচয়ের অমিল পাওয়া গেলে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। টিকিট পরীক্ষক ও ট্রেনের গার্ডদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের প্রস্তাবও দিয়েছেন এই সাবেক কর্মকর্তা। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে দায়িত্ব পালনের সময় অনিয়ম শনাক্ত করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন ছাড়ার তিন থেকে পাঁচ দিন আগে টিকিট ইস্যুর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়েও পরিকল্পনা
টিকিট কালোবাজারি বন্ধের পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মাহবুব কবীর মিলন। তিনি প্রস্তাব করেছেন, বাহিনীটির আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, দায়িত্ব পালনে বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা ও মনোবল বাড়ানো জরুরি। ট্রেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এবং রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) মধ্যে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে।
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বন্ধের প্রতিশ্রুতি
রেলের টিকিটের অনিয়মের পাশাপাশি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধ করার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মাহবুব কবীর মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এক মাসের জন্য স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রুটগুলোতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।
নিজের প্রস্তাব বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পুরো কার্যক্রমের অগ্রগতি জনগণকে সরাসরি জানানোর প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় থাকে। তবে মাহবুব কবীর মিলনের এই প্রস্তাবের বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।


