নিজস্ব প্রতিবেদক: বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ একটি আবাসিক বাসা। অথচ এর ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছিল ভারতীয় নামীদামী প্রসাধনীর অবৈধ গুদাম। সীমান্ত পেরিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব পণ্যের এক বড় চালান আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চক্রের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ কাউসারকে (৩২) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূল হোতা ও গ্রেপ্তার কাউছারের আপন ভাই মো. আল-আমিন (৩৫) পালিয়ে যান।
রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরের দিকে আটককৃতকে আদালতে প্রেরণের কথা জানায় নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের। এরআগে, গতকাল (শনিবার) রাতে নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শহরে অবৈধ প্রসাধনীর চক্র সক্রিয় থাকার খবর পায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শহরের সাতপাই এলাকায় বায়েজীদ আহমেদের মালিকানাধীন দোতলা বাড়ির ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় পালানোর চেষ্টাকালে মোহাম্মদ কাউছারকে আটক করা হয়। পরে ঘরের মেঝে ও আলমারিতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা প্রসাধনী জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই বাসা থেকে আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ টাকার পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত প্রসাধনীর মধ্যে রয়েছে- ‘কেও কার্পিন বডি অয়েল’, ‘পন্ডস ব্রাইট বিউটি ক্রিম’, ‘ইমামী সেভেন অয়েল ইন ওয়ান’ তেল, ‘নবরত্ন অয়েল’, ‘ডোভ সিরাম বার সাবান’ ও ‘পন্ডস স্যান্ডেল পাউডার’।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বাড়ি জেলার পূর্বধলা উপজেলার উত্তর কাজলাপোতা এলাকায়। তারা দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব প্রসাধনী এনে শহরের বিভিন্ন বাজারের দোকানে সরবরাহ করে আসছিলেন। লোকচক্ষুর আড়াল করতেই তারা আবাসিক এলাকার এই বাসাটিকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিলেন।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


