জামালপুর প্রতিনিধি: “এসো কাবিং করি, সুন্দর জীবন গড়ি” কেবল একটি স্লোগান নয়, যেন একদল স্বপ্নবাজ শিশুর আগামীর পাথেয়। শৈশবের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নিয়মানুবর্তিতা আর নীতি-নৈতিকতার পাঠ নিতে জামালপুরে একত্রিত হয়েছে শত শত খুদে শিক্ষার্থী। তাদের আনন্দময় পদচারণা আর কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে সদর উপজেলার বাঁশচড়া এস.বি.জি মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
এখানেই বসেছে শিশু-কিশোরদের মিলনমেলা- ‘৫ম উপজেলা কাব ক্যাম্পুরী-২০২৬’।
বাংলাদেশ স্কাউটস, জামালপুর সদর উপজেলার সযত্ন আয়োজনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উৎসবমুখর পরিবেশে পর্দা ওঠে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণিল ক্যাম্পুরীর।
সন্ধ্যার স্নিগ্ধতায় শুরু হওয়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্যাম্পুরীর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন জামালপুর সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি তার বক্তব্যে কোমলমতি শিশুদের মাঝে দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বগুণ জাগ্রত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার, জেলা স্কাউটস-এর সম্পাদক শফিউর রহমান শফী এবং সদর উপজেলা স্কাউটের কমিশনার নজরুল ইসলামসহ স্কাউটস ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে শিশুদের অনুপ্রেরণা দিয়ে বলেন, আজকের শিশুরাই আগামীর কর্ণধার। একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে হলে শৈশব থেকেই নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আর এই কাজটিই অত্যন্ত নিপুণভাবে করে থাকে স্কাউটিং। ক্যাম্পুরীর মতো আয়োজন শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
আয়োজকরা জানান, এবারের ক্যাম্পুরীটি কলেবরে বেশ বড়। সদর উপজেলার ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩০৬ জন কাব স্কাউট অংশ নিচ্ছে এই আয়োজনে। খুদে এই শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনা ও দেখভালের জন্য তাদের সঙ্গে রয়েছেন ৫১ জন শিক্ষক। এছাড়াও পুরো আয়োজনের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করছেন আরও ৫০ জন নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবী।
আগামী পাঁচ দিন এই ক্যাম্পিংয়ে কাব স্কাউটরা নানাবিধ শিক্ষামূলক সেশন, খেলাধুলা, তাঁবু বাস এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজেদের শাণিত করবে। আনন্দ আর শিক্ষার এই অপূর্ব সমন্বয়ের মধ্য দিয়ে প্রতিটি শিশুই হয়ে উঠবে আগামীর আলোকিত মানুষ- এমনটাই প্রত্যাশা অভিভাবক ও আয়োজকদের।


