মনিরুজ্জামান খান গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার ও সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ গাইবান্ধা । শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:মো. সোহেল মন্ডল (২৭) পিতা: মো. আইদুল হোসেন, মো. হেলাল ইসলাম (২২) — পিতা: মো. হাসেম আলী (উভয়ই বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধার বাসিন্দা। ঘটনার বিবরণ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মো. আমিনুল ইসলামের মোবাইলে কল দিয়ে দাবি করা হয় যে, তার ছোট ছেলে তামিম আল মাহী কয়েকজন বন্ধুসহ মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।
।ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করতে চক্রটি এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তার ছেলের কণ্ঠস্বর নকল করে শোনায় এবং ছেলেকে ছাড়িয়ে আনার বিনিময়ে টাকা দাবি করে। ছেলের সুরক্ষার কথা ভেবে ভয়ে ও উদ্বেগে আমিনুল ইসলাম মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দুই দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তীতে তিনি সরাসরি ছেলের সঙ্গে কথা বললে জানতে পারেন তিনি বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মামলা ও অভিযান প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর নাটোর সদর থানায় একটি মামলা করেন।
মামলা নং-৫৯ দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর এসআরবি-১৩-এর সিপিসি-৩ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে সোহেল মন্ডল ও হেলাল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মালামাল জব্দ ও স্বীকারোক্তি গ্রেপ্তারকালে আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়:প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন১টি পাসপোর্ট নগদ ১৪,১০০ টাকাপ্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এসআরবি-১৩ জানিয়েছে,গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


