মনিরুজ্জামান খান গাইবান্ধা:
ডিজিটালাইজেশন বা আধুনিকায়নের অজুহাতে দলিল লেখকদের রুজি-রুটি ও পেশাগত অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না বলে জোরালো দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ৭ দফা দাবি আদায়ে গাইবান্ধা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে থেকে দলিল লেখকরা এক আন্দোলন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গাইবান্ধা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশে রূপ নেয়।সমাবেশের বক্তব্য ও প্রধান দাবি:সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় দলিল লেখক সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক।
তিনি বলেন, “ভূমি সেবা ও রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও তা যেন দেশের প্রায় ৬ লাখ দলিল লেখককে পেশাচ্যুত করার বা কর্মহীন করার ষড়যন্ত্রে পরিণত না হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগুক, কিন্তু তা যেন কোনো শ্রমজীবী মানুষের পেটে লাথি না মারে। “দলিল লেখকদের উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ:আইনি সুরক্ষা: ডিজিটাল নিবন্ধনের নামে কাউকে কর্মহীন না করে পেশাগত আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। দলিল লেখকদের পেশাগত লাইসেন্স বহাল রাখা এবং কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অংশীজনদের মতামত: রেজিস্ট্রি ব্যবস্থায় যেকোনো পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজন বা দলিল লেখকদের সাথে আলোচনা করা। সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন:কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ: প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রানা, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মিথেন, জেলা অর্থ সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম, জেলা দপ্তর সম্পাদক তোজাম্মেল হক সরকার এবং জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম রানা।
উপজেলা নেতৃবৃন্দ: সাঘাটা উপজেলা সভাপতি আজিজার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম; ফুলছড়ি উপজেলা সভাপতি লতিফ সরকার; সাদুল্লাপুর উপজেলা সভাপতি মুনছুর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ; পলাশবাড়ী উপজেলা সভাপতি আজাদুল ইসলাম সাবু ও সহ-সভাপতি আবদুল কাফি।
বক্তারা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকরা সাধারণ মানুষের জমি কেনাবেচা ও আইনি নথিপত্র তৈরিতে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ভূমিকা রেখে আসছেন। তাই দেশের লাখ লাখ মানুষের জীবিকা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। শেষে সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় রাখার আহ্বান জানিয়ে “বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জিন্দাবাদ” স্লোগানের মাধ্যমে সকল ন্যায্য দাবি আদায়ে রাজপথে একাত্মতা প্রকাশ করে সমাবেশ শেষ হয়।


