জামালপুর প্রতিনিধি: একদিকে ন্যায্যমূল্যে সারের জন্য ডিলারদের দ্বারে দ্বারে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস, অন্যদিকে রাতের আঁধারে চলছে সার পাচারের মহোৎসব। তবে কৃষকের এই বঞ্চনা দূর করতে এবং সারের কালোবাজারি রুখতে এবার কঠোর অবস্থানে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পাচারকালে ২৩ বস্তা সার জব্দ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন। একইসঙ্গে সার বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে চালু করা হয়েছে যুগান্তকারী ‘অনলাইন অ্যাপ’ পদ্ধতি।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন জানতে পারে- রাতের আঁধারে ভ্যানগাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ সার পার্শ্ববর্তী ইসলামপুর উপজেলায় পাচার করা হচ্ছে। এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মেরুরচর ইউনিয়নের টুপকারচর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালান ইউএনও মুরাদ হোসেন। এ সময় ভ্যানে থাকা ২৩ বস্তা সার হাতেনাতে জব্দ করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জব্দকৃত সারগুলো বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়।
এ অভিযান প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হোসেন জানান, ‘রাতের অন্ধকারে সারের বস্তাগুলো ঠিক কোন ডিলারের কাছ থেকে এসেছে এবং কারা পাচারের সঙ্গে জড়িত, তা নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চক্রটি শনাক্ত হওয়া মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের মতে, ভরা মৌসুমে ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য গেলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় সার না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় তাদের। কৃষকদের দাবি, অসাধু কিছু ডিলার পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এরপর সেই সার সাধারণ কৃষকদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করার পাশাপাশি রাতের আঁধারে অন্যত্র পাচার করে দেয়।
তবে কৃষকের দীর্ঘদিনের এমন বঞ্চনা ও ডিলারদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। ডিলারদের সার বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘অনলাইন ভিত্তিক অ্যাপস’। নতুন পদ্ধতির ফলে সারের কালোবাজারি, স্বজনপ্রীতি বা বিতরণে অব্যবস্থাপনার সুযোগ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাপসের মাধ্যমে সার বিতরণ শুরু হওয়ায় একজন কৃষকের জমির পরিমাণ অনুযায়ী ঠিক যতটুকু সার প্রয়োজন, তিনি বরাদ্দ হিসেবে ততটুকুই পাবেন। এই ব্যবস্থায় কোনো ডিলার চাইলেও কৃষকের সার আত্মসাৎ বা কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ পাবেন না।’
প্রশাসনের রাতের আঁধারে ঝটিকা অভিযান এবং প্রযুক্তিভিত্তিক সার বিতরণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ কৃষকরা। তারা মনে করছেন, কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে অচিরেই সার নিয়ে তাদের সকল ভোগান্তির অবসান ঘটবে।


