নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা পৌর শহরের কেন্দ্রস্থল ছোট বাজার (মাইকপট্টি) এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. মাসুমুর রহমান মাসুদ (৪০) নামের চিহ্নিত এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতারকৃত মাসুদ শহরের ছোট বাজার (মাইকপট্টি) এলাকার মৃত মতিউর রহমান মতিন ও মৃত জীবন নাহারের ছেলে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে গ্রেফতারকৃত মাসুদকে আদালতে প্রেরণ করে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। এরআগে, গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে পরিচালিত অভিযানে তার কাছ থেকে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা ৫০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ হাজার টাকা।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ডিবির এসআই (নিঃ) মো. তোফায়েল ইসলাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, মাসুদের নিজ টিনশেড হাফ বিল্ডিং বাসায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ইয়াবা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এরপর রাত সোয়া ১১টার দিকে এসআই তোফায়েল ইসলাম এএসআই মো. শরীফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই-তিন জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মাসুদ ডিবি পুলিশের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়ে। স্থানীয় সাক্ষী মো. শাহিন মিয়া (৫৫) ও মো. রাসেল চৌধুরী (৪২) এর উপস্থিতিতে মাসুদের পরিহিত ফুলপ্যান্টের ডান পকেট থেকে একটি নীল রঙের জিপার যুক্ত পলিথিন উদ্ধার করা হয়। এর ভেতরে হালকা কমলা রঙের আনুমানিক ৫ গ্রাম ওজনের ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রক্ষিত ছিল।
এ ঘটনায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এসআই মো. তোফায়েল ইসলাম বাদী হয়ে মাসুদকে এজাহারনামীয় ও আরও পলাতক দুই-তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং শনিবার বিকেলের দিকে মাসুদকে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে স্থানীয় এক বাসিন্দার তথ্যমতে, মাসুদ এর আগে মাদক সংক্রান্ত মামলায় প্রায় সাত বছর কারাভোগ করেছে এবং এক থেকে দেড় বছর আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় এই পেশায় যুক্ত হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাসুদের এই মাদক ব্যবসার সাথে তার পরিবারের সদস্যরাও ওতপ্রোতভাবে জড়িত, বিশেষ করে তার বড় ভাই শাহিনের স্ত্রী পান্না (৪৫) এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী।
ওই মহল্লার আরেক ব্যবসায়ী জানান, গ্রেফতারের পরদিন সকালে মাসুদের ভাবি পান্না মাসুদের জন্য নাস্তা নিয়ে যান। সে সময় মাসুদ ভাবিকে জানায়, গ্রেফতারের সময় সে কাউন্টারের নিচে ১০ হাজার টাকা ফেলে রেখেছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে পান্না সেই দোকানে গিয়ে টাকার খোঁজ করেন। তবে দোকানদার জানান যে সেখানে কোনো টাকা নেই, পুলিশ তল্লাশি করে এক হাজার টাকা পেয়ে তা নিয়ে গেছে।
একই সূত্র থেকে আরও জানা যায়, মাসুদের সাথে সাইমন নামের এলাকার আরেক বড় মাদক ব্যবসায়ীও যুক্ত, মাসুদ গ্রেফতার পর থেকে বর্তমানে সে পলাতক। তারা দুজনে একই সাথে মাইকপট্টি এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করত। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাইমনের বোন কারারক্ষী হওয়ায় সে প্রভাব খাটিয়ে সহজেই পার পেয়ে যায়। এক সপ্তাহ আগে ডিবি পুলিশ সাইমনকে আটক করলেও পরে সে ছাড়া পেয়ে যায়। গতকাল মাসুদের সাথে একই সময়ে তাকেও ধরা হয়েছিল, তার কাছে কিছু না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মাদক ব্যবসায়ীদের এমন দৌরাত্ম্যে স্থানীয় মাইকপট্টি ও স্বর্ণকার পট্টি এলাকার বাসিন্দারা চরম ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকাটি মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিদিন সকাল ১১টা, বিকেল ৪টা এবং রাত ১১টা থেকে ২টা পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে অপরিচিত লোকজন এলাকায় আসে। স্বর্ণকার পট্টি ক্লাবের ছাদে বসে তারা মাদক সেবন করত, যার ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা ক্লাবটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং নিজ পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে মহল্লাবাসী শঙ্কিত। পাপের শাস্তি যেন পুরো মহল্লাকে ভোগ করতে না হয়, সেজন্য এলাকাবাসী অবিলম্বে এ চক্রের সকলের কঠোর আইনি বিচার দাবি করেছেন।


