রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা খাদ্য গুদামে অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের মধ্যে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পেয়েছে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত দল। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ ও খাদ্য কর্মকর্তা নবাব আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের তদন্ত দল গুদামে আকস্মিক পরিদর্শনে যায়। এ সময় একটি ট্রাকে চাল তোলার ঘটনা দেখে চালগুলো আটকে গুদামেই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে মজুত, নথিপত্র, ধান-চাল সংগ্রহ ও বিতরণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ড যাচাই করে তদন্ত দল।
গুদাম সূত্রে জানা যায়, ওই চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডিলার রতন কুমারের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাল সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ আগস্ট শেষ হওয়ার পরও চাল ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে গুদামের ৩৭ জন ডিলারের অভিযোগ, গত আগস্টে বড় বস্তায় চাল দেওয়ার কথা বলে ডিলারপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কম ওজন, নিম্নমানের চাল, সরকারি বস্তা নিয়ে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তে বোরো ধান সংগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গুদামের বাইরে একটি রাইস মিল থেকে ধান সংগ্রহ করে পরে তা সরকারি গুদামে উত্তোলন দেখানো হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে সংগ্রহসংক্রান্ত নথি ও হিসাব খতিয়ে দেখেছে তদন্ত দল।
খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দার বলেন, ডিমলা খাদ্য গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। তাঁর নির্দেশে ৩ সেপ্টেম্বর দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। মামুনুর রশীদকে সন্দ্বীপে এবং নবাব আলীকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে।


