নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসাহ-উদ্দীপনা, উৎসবমুখর পরিবেশ ও হাজারো দর্শকের করতালির মধ্য দিয়ে নেত্রকোনার ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে শুরু হলো ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী ম্যাচের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে দুর্গাপুর উপজেলা দল।
দীর্ঘদিন পর নেত্রকোনার মোক্তারপাড়া মাঠে এমন বড় পরিসরে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. নুরুজ্জামান, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদু্জ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব হেদায়েত উল্লাহ রুমিন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ এবং ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বিগত দিনে ক্রীড়াঙ্গনে দলীয়করণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ফুটবল সারা পৃথিবীতেই অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খেলা। বাংলাদেশে শিশু হাঁটা শেখার পরই ফুটবলে লাথি দিতে শুরু করে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ক্রীড়াঙ্গনকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করার কারণে আমরা ফুটবলের সেই সোনালী ঐতিহ্য আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলেছি; আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আমাদের পরিচিতি ধরে রাখতে পারিনি।”
বর্তমান সরকারের ক্রীড়াবান্ধব নীতির কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকেই তাঁর নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিপথগামী ও মাদকে আসক্ত যুবসমাজকে রক্ষা করতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আগামী দিনে প্রতিটি স্কুলে ক্রমান্বয়ে সরকারিভাবে স্পোর্টস টিচার নিয়োগ দেওয়া হবে। তাদের মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষিত করে খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে আমরা বিশ্বের দরবারে নতুন করে পরিচিত করাতে চাই।” তিনি খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন নয়, পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্যও সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “ফুটবল বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের খেলা। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে এবং সুস্থ-সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে।”
আলোচনা পর্ব শেষে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরই মাঠে গড়ায় কাঙ্ক্ষিত লড়াই। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় দুর্গাপুর ও মোহনগঞ্জ উপজেলা দল। খেলার শুরু থেকেই উভয় দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে মাঠে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। প্রথমার্ধে দু’দলই সমানতালে লড়লেও কেউ গোলের দেখা পায়নি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ায় দুর্গাপুর। চমৎকার বোঝাপড়া ও দারুণ পাসিংয়ের একপর্যায়ে দুর্গাপুর উপজেলা দলের ১৪ নম্বর জার্সিধারী স্ট্রাইকার আকিকুল ইসলাম দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। তার দর্শনীয় গোলেই দুর্গাপুর ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। গোল হজম করার পর মোহনগঞ্জ মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালালেও দুর্গাপুরের জমাট রক্ষণভাগ আর ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আকিকুল ইসলামের দেওয়া ওই একমাত্র গোলেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুর্গাপুর উপজেলা দল।


