নিজস্ব প্রতিবেদক: “দুর্নীতির বিরুদ্ধে-রুখে দাঁড়াও একসাথে”- সময়োপযোগী এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে তাৎপর্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বারোমারী কম্পেশন মিলনায়তনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ সভার আয়োজন করা হয়। সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণ প্রজন্মসহ সব স্তরের নাগরিকদের আরও সক্রিয় করে তোলাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে কীভাবে আরও কার্যকর ও গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রমে সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নানা উপায় নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা।
সভায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক তোবারক হোসেন খোকন তার বক্তব্যে বাস্তবমুখী পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম আরও বাড়াতে হবে।” নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা গ্রহণে সহযোগিতা করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগে সকলকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “দুর্নীতি একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। এটি প্রতিরোধে শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে না। এজন্য নাগরিকদের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তবেই সমাজ থেকে দুর্নীতি কমে আসবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে করণীয় সম্পর্কে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “দুর্নীতি প্রতিরোধে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ।” সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সমাজ থেকে মাদক ও বাল্যবিয়ে দূর করতেও নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে এবং এসব সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বারোমারী কম্পেশনের ব্যবস্থাপক এলিসন ঘাগ্রা প্রাসঙ্গিক ও গঠনমূলক বক্তব্য রাখেন। আয়োজনের শেষাংশে ছিল অংশগ্রহণমূলক মতবিনিময় পর্ব।
এতে শিক্ষার্থীরা বেশ উৎসাহের সঙ্গে অংশ নেন। তারা নিজ নিজ এলাকায় দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে নিজেদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। উপস্থিত সুধীজন মনে করেন, শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, আগামী প্রজন্ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর।


