নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা সদর উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০৫ গ্রাম হেরোইনসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দকৃত এসব হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের মোটরসাইকেল (সুজুকি জিক্সার ব্র্যান্ড) জব্দ করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরকোনা গ্রামের মো. রমজান মিয়া (৩৭), বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের হিমেল মিয়া (২১) এবং আটপাড়া উপজেলার গোয়াতলা গ্রামের রানা মিয়া (২০)। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের অন্যতম হোতা পূর্বধলা উপজেলার মানিকদি গ্রামের খোরশেদ আলম ওরফে আলম (৩৩) পালিয়ে যান।
নেত্রকোনা মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে ঠাকুরকোনা গ্রামে রমজান মিয়ার ঘরের বারান্দায় কতিপয় ব্যক্তি মাদক বেচাকেনা করছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম ও এসআই মো. ফজলুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে রমজান, হিমেল ও রানাকে আটক করে পুলিশ। পরে তল্লাশি চালিয়ে রমজান মিয়ার পরিহিত লুঙ্গির ডান দিকের কোঁচ থেকে স্বচ্ছ পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১০৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পলাতক আসামি খোরশেদ আলমের ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় হেরোইনের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘মাদক নির্মূলে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
নেত্রকোনায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযানে জনমনে স্বস্তি বিরাজ করছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে জেলায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশেই কমে আসবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


