গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাসভবনের গার্ডদের ওয়াশরুম থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় হাবিবুর রহমান (৩৩) নামের (নায়েক/৬০৫) এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত হাবিবুর রহমানের বিপি নম্বর ৯৩১৩১৬৫২৯৪। তিনি নীলফামারী জেলার বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. মিন্টু মিয়া।
বুধবার ২৬ আগষ্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হাবিবুর রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সরদারপাড়া গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি এক সন্তানের জনক ছিলেন। গত ১২ আগস্ট ঢাকা থেকে বদলি হয়ে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোতে গার্ড হিসেবে যোগ দেন।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে হাবিবুর রহমান মোবাইলে স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন। কথা বলার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে তিনি ফোন চালু রেখেই ব্যারাকের ওয়াশরুমে প্রবেশ করেন ।
দীর্ঘ সময় ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে সহকর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করেন। ভেতরে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় ধাক্কা দিয়ে খুলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের বক্তব্য গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল জানান, পারিবারিক ঝগড়ার জেরে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই হাবিবুর এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।
তার উগ্রতা দেখে স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীদের বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ জানালে হয়তো এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে পুলিশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক কলহের বিষয়টি মাথায় রেখে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।


