নিজস্ব প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের কৃতি সন্তান তরুণ গবেষক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাসেল আহম্মেদ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। ২২ আগস্ট, ২০২৬ লন্ডনের অভিজাত Holiday Inn হোটেলে অনুষ্ঠিত 3rd International Conference on Civil Engineering Innovations and Advancements (ICCEIA’26)-এ তিনি তার গবেষণাটি উপস্থাপন করেন।
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাসেল আহম্মেদ বর্তমানে চীনের China Institute of Water Resources and Hydropower Research (IWHR)-এ Doctor of Engineering প্রোগ্রামে সিভিল/জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণা করছেন। তিনি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের আমরুল জোয়ারদারপাড়ার বাসিন্দা। জানা যায়, ২০১২ সালে গ্রামের একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫.০০ অর্জন করেন রাসেল আহম্মেদ।
এরপর বগুড়া সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে সিভিল টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে চীনে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে চীনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ধারাবাহিকতায় তিনি Master of Engineering ডিগ্রি অর্জন করেন এবং বর্তমানে বেইজিংয়ে ডক্টর অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে গবেষণা করছেন। লন্ডনের এবারের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স ছাড়াও ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহম্মেদ এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের আগস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার Incheon National University-এর আয়োজনে HydroAsia-2023-এ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া চীনের Tsinghua University-এর অধীনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, 3rd Asia Water Week, XVIII World Water Congressসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনেও তিনি অংশগ্রহণ ও গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেছেন। পেশাগত জীবনেও তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন দেশের প্রকৌশল পেশার গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলোর সঙ্গে।
তিনি The Institution of Engineers, Bangladesh (IEB) এবং Institution of Diploma Engineers, Bangladesh (IDEB)-এর সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ১৯ আগস্ট চীনের বেইজিং থেকে লন্ডনে আসা ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহম্মেদ পাঁচ দিনের সফরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তাঁর আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে গবেষণা উপস্থাপনের খবরে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। লন্ডন থেকে ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহম্মেদ বলেন, আমি প্রত্যন্ত গ্রামের একটি সাধারণ পরিবার থেকে বেড়ে উঠেছি।
ছোটবেলা থেকেই আমার প্রয়াত বাবার শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আমাকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমার এই সফলতার পেছনে বাবার ইচ্ছাশক্তি ও স্বপ্নকে আমি সবসময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি গর্বিত ও আনন্দিত। ভবিষ্যতে গবেষণা ও প্রকৌশল জ্ঞানের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ইঞ্জিনিয়ার রাসেল আহম্মেদ তাঁর এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে লন্ডন সফর শেষে যেন সুস্থ ও নিরাপদে চীনের বেইজিংয়ে ফিরতে পারেন, সেজন্য বগুড়াসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।


