রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
নীলফামারীর ডিমলায় জরাজীর্ণ কাঠের সেতুর দুরবস্থা দেখতে গিয়ে সেতুর একাংশ ভেঙে নদীর ধারে পড়ে গেলেন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর ডিমলা ইউনিয়নের নটাবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের চিত্র সরেজমিনে দেখতে এবং সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে যান এমপি আব্দুস সাত্তার। সকাল ১১টার দিকে তিনি স্থানীয় নেতা-কর্মী ও গ্রামবাসীদের নিয়ে জরাজীর্ণ কাঠের সেতুটিতে ওঠেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেতুটির ওপর একসঙ্গে অতিরিক্ত মানুষ ওঠার কিছুক্ষণ পরই কাঠের একটি অংশ মচকে যায়। মুহূর্তেই সেতুর অংশবিশেষ ভেঙে পড়লে কয়েকজন নেতা-কর্মী ভারসাম্য হারিয়ে নদীর ধারে পড়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থলে হইচই শুরু হয়। তবে দ্রুত স্থানীয়রা ও এমপির সফরসঙ্গীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।
দুর্ঘটনায় কয়েকজন সামান্য আঘাত পেলেও গুরুতর হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারও অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে সরে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নটাবাড়ী গ্রামের সঙ্গে নাউতারা ইউনিয়নের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেতুটি ব্যবহার করেন। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
ডিমলা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মজিবুর রহমান বলেন, “সেতুটি দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ। অতিরিক্ত মানুষের চাপের কারণে এর একটি অংশ ভেঙে পড়েছে। তবে এমপি মহোদয় সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে আছেন।”
পরে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার বলেন, “আজকের ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, এখানকার মানুষ কী ধরনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। নটাবাড়ী-নাউতারা নদীর ওপর দ্রুত একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ এবং সংযোগ সড়ক পাকাকরণের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিদর্শনকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর নটাবাড়ী-নাউতারা এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


