নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা সুলতানার বিরুদ্ধে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনে নীতিমালা লঙ্ঘন, বিভিন্ন অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সরকারি অর্থের অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীকে না জানিয়ে এবং প্রয়োজনীয় নোটিশ প্রকাশ না করেই নিজের পছন্দের একজনকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত করে এসএমসি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সায়ফুল ইসলামের সঙ্গে প্রধান শিক্ষিকার বিরোধ দেখা দেয়। পরে প্রধান শিক্ষিকা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও বিদ্যালয়ে তদন্তে যান।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া শিশু শ্রেণির উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বরাদ্দের বিপরীতে বিদ্যালয়ে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ দেখা যায়নি।
বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের দুরবস্থা, শিশু শ্রেণিকক্ষের বেহাল অবস্থা এবং শিক্ষার পরিবেশের অবনতির বিষয়ও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা অভিযোগে দাবি করেন, বর্তমান এসএমসি গঠনের প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে তফসিল ঘোষণা করে স্বচ্ছ ও নীতিমালা অনুসরণ করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রধান শিক্ষিকা ফারহানা সুলতানাকে বিদ্যালয় থেকে অপসারণেরও দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জছিজুল আলম মণ্ডল বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে।


