কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় দুলাভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় অভিযু্ক্ত মো. মতি মিয়া (৫৫) উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত মন্নাফ হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মতি মিয়া পলাতক রয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। এরআগে, গতকাল (মঙ্গলবার) দিনগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে থানায় মামলা হিসাবে নথিভূক্ত করা হয়।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুন) বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে মোজাফফরপুর ইউনিয়নের গগডা গ্রামের ওই শিক্ষার্থী তার আপন দুলাভাইয়ের বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সে চিরাং ইউনিয়নের বাট্টা (ভাটিপাড়া) নামক স্থানে পৌঁছালে লম্পট মতি মিয়া তার মুখ চেপে ধরে রাস্তার পাশে পাটক্ষেতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণের এই জঘন্য ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মাতব্বর লোকলজ্জার ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চালায়। এতে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অবশেষে সামাজিক চাপ ও মাতব্বরদের সালিশি উপেক্ষা করে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং মধ্যরাতে থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি নেমে আসে। তবে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মামলাটি দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য আজ (বুধবার) ভুক্তবোগীকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামি মতি মিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


