নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বড় ভাইয়ের বসতঘরের সামনের বারান্দা থেকে আবুল কালাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে উপজেলার চণ্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আবুল কালাম মউ গ্রামের মৃত আবাল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠলে বড় ভাই আব্দুল ছালামের ঘরের বারান্দার ধরনার (আড়ার) সঙ্গে ছোট ভাই আবুল কালামকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। আকস্মিক ও মর্মান্তিক এই দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরে স্থানীয়রা দুর্গাপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত আবুল কালাম এবং তার বড় ভাই আব্দুল ছালামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনা বিরাজ করত। স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে এটি অভিমানে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড- সে বিষয়ে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার আগ পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল (ইনকুয়েস্ট) প্রতিবেদন তৈরি করে।
এ প্রসঙ্গে দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি এবং বারান্দার ধরনা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা মরদেহটি উদ্ধার করি। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের নিমিত্তে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি দুই ভাইয়ের মধ্যে জমিজমা নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলে আসছিল। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (পোস্টমর্টেম) হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মউ গ্রামজুড়ে বর্তমানে শোক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


