কেন্দুয়া প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক নারী, তার স্বামী ও ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তানের ওপর হামলা এবং লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. রীনা আক্তার বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দুয়া উপজেলার সরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. রীনা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে তাদের চাচাতো ভাইদের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন (মঙ্গলবার) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে কেন্দুয়া বাজারের চাল মহল এলাকায় বিল্লালের দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রীনা আক্তারের স্বামী কাজী মাহবুব আলম ও তাদের ১০ বছর বয়সী মেয়ে কাজী মেহেরিমা আনজুম ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তাদের পথরোধ করে।
লিখিত অভিযোগে রীনা আক্তার উল্লেখ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে নুরুজ্জামান, নূরে আলম, শাহ আলম ও তুষার মিয়া নামের চার ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তুষার মিয়া বাঁশের লাঠি দিয়ে কাজী মাহবুব আলমের বাম হাতের কব্জিতে সজোরে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে তাদের ১০ বছর বয়সী শিশু সন্তান মেহেরিমা আনজুমকেও রেহাই দেওয়া হয়নি; তার ডান হাতের আঙুলেও আঘাত করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ হামলা থেকে পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে গেলে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক মাহবুব আলমের হাত থেকে ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি এবং গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
এছাড়া, হামলাকারীরা বাজারে চার বোনের মালিকানাধীন দোকানের কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকানপাট খুলতে বাধা দেয় এবং জোরপূর্বক দোকান বন্ধ করে দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।
এদিকে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নুরুজ্জামান। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, “মাহবুব আলম আমাদের জামাই হলেও তার আচরণ মোটেও ভালো নয়। আমাদের মরহুম চাচাতো ভাই জুয়েল মিয়ার রেখে যাওয়া দুই এতিম সন্তানের ১২ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে তার কাছে। দীর্ঘদিন ধরে দেন-দরবার করেও সেই টাকা তিনি ফেরত দিচ্ছেন না। আমার ভাই তুষারের সঙ্গে মাহবুব আলমের পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। সম্ভবত সেই কারণেই চাল মহলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না এবং মারধর বা ছিনতাইয়ের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে পুলিশ তৎপর রয়েছে। লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


