জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ উপজেলায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা দুটির পৃথক স্থানে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশুর মায়েরাই ঘটনার সময় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং খেলার ছলে শিশুদের পানিতে পড়ে যাওয়ার এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো- বকশিগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের গাজীর পাড়া এলাকার সুজা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী (২) এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের বেতাগাঁ এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে ইয়ামিন (দেড় বছর)।
নিহত মোহাম্মদ আলীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন শিশুটির মা লামিয়া আক্তার। এ সময় শিশু মোহাম্মদ আলী উঠানে খেলা করছিল। খেলতে খেলতে সবার অগোচরে সে বাড়ির পাশের সিংগি ডোবা বিলে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন মা লামিয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয়রা বিলের কিনারে শিশুটির নিথর দেহ ভাসতে দেখেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বকশিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যু হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত মোহাম্মদ আলীর মা লামিয়া আক্তার বলেন, “আমি সকালের খাবার রান্না করছিলাম আর ছেলে উঠানে খেলছিল। হঠাৎ করেই তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে দেখি আমার বুকের ধন বিলে ডুবে মারা গেছে।”
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ থানাধীন কামালের বার্ত্তী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই দিন সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার বেতাগাঁ এলাকায় একই রকম আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়ামিনের পরিবার জানায়, সকালে শিশুটির মা যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত, তখন দেড় বছর বয়সী ইয়ামিন বাড়ির উঠানে খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে সে উঠানে বৃষ্টির পানি জমে থাকা একটি গর্তে (কুয়া) পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করলে তাকে গর্তের পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান বাবা-মা। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইয়ামিনের বাবা জাহিদুর ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “আমার স্ত্রী রান্নার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় ছেলের দিকে নজর দিতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর আমরা দেখি ইয়ামিন আমাদের উঠানের কুয়াতে পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ডাক্তার জানান আমার ছেলে আর বেঁচে নেই।”
মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
একই দিনে দুটি অবুঝ শিশুর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে উভয় পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের আরও বেশি সতর্ক ও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল।


