তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
সিলেট বিভাগের চা-শিল্পাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ চান্দপুর-দেউন্দি সড়কের ‘গেলানিয়া সেতু’ এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এই পুরোনো সেতুটি টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের স্রোতে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেতুর সংযোগ সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ রকমের ভাঙন দেখা দিয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই পথ দিয়ে চলাচল করছেন লালচাঁন ও দেউন্দিসহ আশপাশের কয়েকটি চা-বাগানের হাজারো শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দশকের পুরনো এই সেতুর পিলার ও সংযোগস্থল সংস্কারের অভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কাঁপতে থাকে পুরো কাঠামো। সড়কের পাশের মাটি ধসে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি এখন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
চা-শ্রমিকেরা জানান, প্রতিদিন ভোরে এই নড়বড়ে সেতুর ওপর দিয়েই তাদের কাজে যেতে হয়। ভারী যানবাহন চলাচল করলে সেতুটি দুলতে থাকে। বিকল্প পথ না থাকায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই তারা এই মরণফাঁদ জেনেই পাড়ি দিচ্ছেন। সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে উপজেলার সঙ্গে কয়েকটি চা-বাগানের যোগাযোগ সম্পুর্ন ভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে পর্যটকদের কাছেও এ এলাকাটি বেশ জনপ্রিয়। ফলে সেতুটি ধসে পড়লে শুধু চা-শিল্প নয়, স্থানীয় পর্যটন খাতের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাবার আগেই জরুরি ভিত্তিতে গেলানিয়া সেতু ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।


