শেখ শামীম: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের মাত্র ১৫০ গজ অংশ এখন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও চালকদের কাছে রীতিমতো এক আতঙ্কের নাম। সামান্য বৃষ্টি হলেই বা কোনো কারণ ছাড়াই কলমাকান্দা-বরুয়াকোনা সড়কের চাঁনপুর মোড় থেকে সাবরেজিস্টার কার্যালয় পর্যন্ত অংশে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। দিনের পর দিন জমে থাকা কাদা-পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে এবং সেগুলোতে পানি জমে রীতিমতো ছোট ছোট জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। সড়কের উপর দিয়ে থৈ থৈ করছে নোংরা কাদা-পানি। এর মাঝখান দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ও রিকশা। যানবাহন চলাচলের সময় জমে থাকা নোংরা পানি ছিটকে পড়ছে পথচারীদের গায়ে, নষ্ট হচ্ছে পোশাক। কাদা ও পানির কারণে এই পথটুকু হেঁটে পার হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য এক দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে সড়কের পাশের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দিনের বেলায়ও শাটার বন্ধ রাখতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা সদরের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক, রিকশা, সিএনজি, বাস ও মালবাহী ট্রাক চলাচল করে। স্থানীয় হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদ এবং থানায় যাতায়াতের জন্য এই সড়কটিই প্রধান মাধ্যম। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যাটি সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যখন সড়কটি সংস্কার করে, মূলত তখন থেকেই এমন ভোগান্তির শুরু। সড়ক সংস্কার হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য সঠিক ও পরিকল্পিত কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই চাঁনপুর মোড় থেকে সাবরেজিস্টার কার্যালয় পর্যন্ত অংশে পানি জমে থাকার প্রবণতা শুরু হয়, যা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
জনদুর্ভোগের এ বিষয়ে কলমাকান্দা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এম. আলমগীর তালুকদার বলেন, “সড়কটি এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যেই এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত সমাধান হবে।”
ওই সড়কের নিয়মিত যাতায়াতকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র ১৫০ গজ সড়কের বেহাল দশা পুরো এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে না। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত এখানে একটি পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করুক।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এলজিইডির কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “সড়কটির নির্দিষ্ট অংশের সমস্যার বিষয়টি আমরা অবগত আছি এবং ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা হয়েছে।”
তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে আরও বলেন, “সড়কটির জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে চলা ভোগান্তির শেষ কোথায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছেন কলমাকান্দার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এলজিইডির দ্রুত ও কার্যকরী হস্তক্ষেপে মাত্র ‘১৫০ গজের অভিশাপ’ থেকে মুক্তি মিলবে, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
