নিজস্ব প্রতিবেদক: জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও স্মার্ট প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে জেলা প্রশাসকের ‘গণশুনানি’। প্রতি সপ্তাহের ন্যায় বুধবার (৮ এপ্রিল) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনভিত্তিক প্রশাসনের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত্ এই শুনানিতে সরাসরি জেলার সাধারণ মানুষের অভাব, অভিযোগ, সমস্যা ও নানা প্রস্তাবনার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
জানা যায়, সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ মানুষ ভিড় করেন। পর্যায়ক্রমে তারা জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে ‘গণশুনানী’ লেখা বোর্ড সামনে নিয়ে বসে থাকা জেলা প্রশাসকের কাছে অত্যন্ত সাবলীলভাবে নিজেদের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেন নাগরিকরা।
আগতদের মধ্যে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, সাধারণ কৃষক, নারী এবং শিশু কোলে অসহায় মায়েরা। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জেলা প্রশাসক তাদের প্রতিটি কথা শোনেন এবং তাদের নিয়ে আসা বিভিন্ন নথিপত্র ও কাগজপত্র নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন।
শুনানিতে আগত জনসাধারণ মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা, সরকারি সাহায্য ও ভাতা প্রাপ্তিতে জটিলতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং স্থানীয় নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে অনেক সমস্যার সমাধান প্রদান করেন। এছাড়া যেসব বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং জেলার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরগুলোকে তাৎক্ষণিক ও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
কোনো রকম মধ্যস্বত্বভোগী বা হয়রানি ছাড়াই সরাসরি জেলার শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পেরে সেবাগ্রহীতারা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেলা প্রশাসনের সাপ্তাহিক গণশুনানি কার্যক্রম প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে। এর মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রমে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যেমন নিশ্চিত হচ্ছে, তেমনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের জনবান্ধব এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
