নিজস্ব প্রতিবেদক: “উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”- যুগোপযোগী এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে বিজ্ঞান মেলা। তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ মার্চ) সকালে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলাটি মূলত উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর।
মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. মিকাইল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কণিকা সরকার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নূরে আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী চান মিয়া, লেংগুড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, কলমাকান্দা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি এম. আলমগীর তালুকদার, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি এনামুল হক তালুকদার প্রমুখ।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান যুগে বিজ্ঞানচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক চর্চা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারা তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের যেকোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি এবং তাদের সুপ্ত সৃজনশীলতা বিকাশে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
এবারের মেলায় কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। মেলা প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধ স্টলগুলোতে তরুণ ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ধারণা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রদর্শনী ও মডেল উপস্থাপন করছে। দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে তৈরি শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবনী প্রয়াস ও সাবলীল উপস্থাপনা মেলায় আসা দর্শনার্থীদের ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
উপজেলা প্রশাসন ও আয়োজক কর্তৃপক্ষের মতে, এ বিজ্ঞান মেলার মূল লক্ষ্য হলো পুঁথিগত বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার বাস্তবমুখী বিকাশ ঘটানো। পাশাপাশি, তৃণমূল পর্যায় থেকে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রগতিশীল ও স্মার্ট সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জোগানোই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। মেলাটি সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
