শেখ শামীম: “এদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো শব্দ নেই। আমরা প্রত্যেকেই মানুষ এবং মানুষ হিসেবে আমাদের সবার সমান অধিকার রয়েছে।”
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দশভূজা মন্দিরে আয়োজিত হরিনাম সংকীর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এভাবেই অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির বার্তা দিলেন বাংলাদেশ সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এদিন সন্ধ্যায় দুর্গাপুর পৌর শহরের ঐতিহ্যবাহী দশভূজা মন্দিরে উপস্থিত হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিমন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি অনুষ্ঠানে আগত ভক্ত ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি সবসময় বলে থাকি, এক মানবের দুই হাত- এক হাত হিন্দুর, আরেক হাত মুসলমানের। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের প্রিয় দুর্গাপুরকে আমরা একসঙ্গে গড়ে তুলতে চাই। আইনগতভাবে এবং মানুষ হিসেবে সবার অধিকার এখানে সমান।”
উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য হবে না উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “উন্নয়নের ক্ষেত্রে কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান- তা কখনো বিবেচনা করা হবে না। সমতার ভিত্তিতে সবার উন্নয়নের অংশীদার হব আমরা। দুর্গাপুরের মাটি আমাদের সবার। এখানে কোনো ভেদাভেদ বা বৈষম্য আমরা করতে দেব না।”
এ সময় তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে স্থানীয় জনগণের অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আপনারা আপনাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে এমপি বানিয়েছেন বলেই আজ আমি মন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সামনে আসতে পেরেছি। এ এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।”
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তোমাদের ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে, যাতে তোমরা তোমাদের মা-বাবা এবং দুর্গাপুরের মুখ উজ্জ্বল করতে পারো।”
পরিশেষে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দশভূজা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ধীরেশ পত্রনবীশ, সাধারণ সম্পাদক শুভেচ্ছা সরকার পিন্টু, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মানেশ চন্দ্র সাহা, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সদস্য সচিব বিদ্যুৎ সরকার, দশভূজা বাড়ি কীর্তন পরিচালনা কমিটির সভাপতি রঞ্জিত সেন, সাধারণ সম্পাদক প্রভাত সাহাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দ।
প্রতিমন্ত্রীর এমন সম্প্রীতিমূলক ও জোরালো বক্তব্য উপস্থিত সকলের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
