নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে জিম্মি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রহিছ উদ্দিন মন্ডল ওই ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এবং ৫নং ওয়ার্ডের ই্উপি সদস্য।
দামড়ীহালা গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল, ফারুক, আলমগীর ও সুজনের স্বাক্ষরিত নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় একটি চক্র তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও চাপ সৃষ্টি করছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্যানেল চেয়ারম্যান রহিছ উদ্দিন মন্ডল নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং এসিল্যান্ডের নাম ব্যবহার করে তাদের হুমকি দিচ্ছেন। চাঁদা প্রদান না করলে মিথ্যা মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়। যার ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান এ বিষয়ে অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে।
এরআগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারীদের মধ্যে প্রথমজন মো. আমিরুল ইসলামের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পত্রে নিজে স্বাক্ষর করার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বালু ও নৌকা সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে এবং সে প্রেক্ষিতেই তারা অভিযোগ দাখিল করেছেন। যাতে চেয়ারম্যান সতর্ক হয়ে যান। ভবিয্যতে যেন তিনি আমিসহ এলাকাবাসীকে ভয়-ভীতি না দেখাতে পারেন।
এদিকে, ফোনালাপে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান রহিছ উদ্দিন মন্ডল এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো ভয়ভীতি প্রদর্শন বা চাঁদা দাবি করেননি। বরং অবৈধ বালু উত্তোলনের একটি জব্দকৃত নৌকা তার জিম্মায় থাকায় প্রশাসন তাকেই মামলা করার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে তিনি পাল্টা দাবি করেন।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান দাবি করেছেন। ভবিষ্যতে যাতে কেউ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে জনগণকে হয়রানি করতে না পারে, সেজন্য জেলা প্রশাসকের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
