নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের (জিবিসি) পাঁচ দিনব্যাপী ১৩৫তম বার্ষিক সম্মেলন। দেশের আটটি জেলা থেকে আগত হাজার হাজার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর অংশগ্রহণে দুর্গাপুর এখন পরিণত হয়েছে এক বিশাল মিলনমেলায়।
পাঁচ দিনব্যাপী এই বৃহৎ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন চলবে আগামী রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের জিবিসি মাঠ চত্বরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মহতী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের প্রেসিডেন্ট সুবন্ত রখো।
এবারের সম্মেলনের মূল সুর বা মূলবচন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বাইবেলের একটি পবিত্র উক্তি- “তখন তিনি আপন শিষ্যদিগকে কহিলেন, শস্য প্রচুর বটে, কিন্ত কার্যকরী লোক অল্প।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের উষ্ণ সংবর্ধনা জানানো হয়। এরপরই সম্মেলনস্থলে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গারো সম্প্রদায়ের আদিবাসী শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে প্রদীপ হাতে এক দৃষ্টিনন্দন নৃত্য ও গান পরিবেশন করেন, যা তাঁদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। এরপর অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিভাগের নেতৃবৃন্দ এবং বোর্ড ও সোসাইটির প্রধানগণ বক্তব্য রাখেন।
গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশনের প্রেসিডেন্ট সুবন্ত রখো জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনে মূলত খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় অনুশাসন ও আত্মিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হবে। এই শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে আত্মিকভাবে পরিপূর্ণ করে তা মণ্ডলী ও নিজ নিজ এলাকার মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।
সম্মেলনের প্রতিদিনের কর্মসূচিতে রয়েছে- সম্মিলিত প্রার্থনা ও আরাধনা, ধর্মীয় শ্লোক পাঠ ও গ্রহণ, দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা সভা, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,
বিগত বছরের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা এবং কনভেনশনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সম্মেলনস্থল ঘিরে বসেছে এক বিশাল মেলা। জিবিসি মাঠ প্রাঙ্গণে অর্ধশতাধিক স্টল বসেছে। এসব স্টলে রকমারি আসবাবপত্র, আকর্ষণীয় পোশাক, শিশুদের খেলনা এবং সুস্বাদু খাবারের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। সব মিলিয়ে দুর্গাপুরে এখন বিরাজ করছে এক উৎসবের আমেজ।
