গাইবান্ধা:
রমজানে সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে দেহে শক্তি ফেরাতে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। পানির ঘাটতি পূরণ, ক্লান্তি দূর করা এবং শরীরকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করতে কমলা, মাল্টা, তরমুজ, আঙুরসহ বিভিন্ন রসালো ফলের পাশাপাশি খেজুর রোজাদারের প্রথম পছন্দ। তবে চলতি রমজানে এসব ফলের দাম এমনভাবে বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের জন্য ইফতারে রকমারি ফল রাখা সত্যিকারের ‘দুঃসাধ্য’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডের ফলের দোকান, হকার্স মার্কেট, পুরাতন বাজার সহ বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে দেখা গেছে ফলের স্টলগুলোতে ভিড় থাকলেও ক্রেতাদের চোখ-মুখে হতাশা।
পছন্দের ফল হাতে নিয়েও দাম শুনে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে। গত মাসের তুলনায় প্রতিটি ফলের দাম ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে খেজুরের দাম গত বছরের রমজানের তুলনায় অনেক বেশি, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা স্বরূপ। ক্রেতাদের অভিযোগ রমজান এলেই ব্যবসায়ীরা অকারণে দাম বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে বাজারে ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় , ডালিম ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, কমলা ৩২০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা,আপেল ২৮০ থেকে ৩৪০ মাল্টা ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা, সাদা আঙ্গুর ৪৫০ টাকা কেজি কালো আঙ্গুর ৫০০ টাকা।
এছাড়া ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ খেজুরের দামও বেড়েছে। মেডজুল খেজুর: কেজি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায় , আজওয়া খেজুর ১৩০০ টাকা মাশরুব খেজুর কেজি ৭০০ টাকা, ইরাকি খেজুর ৬৫০ টাকা এবং সবচেয়ে কমদামের জাহিদি খেজুরের দামও ৩০০ টাকা। হকার্স মার্কেটে ফল কিনতে আসা রেজাউল করিম বলেন, “রমজানে ইফতারে পরিবারের জন্য একটু ফল কিনতেই হাজার টাকা চলে যায়। সাধারণ মানুষের পক্ষে এত দাম দিয়ে ফল কেনা খুবই কষ্টকর।” সাহানা বেগম নামের এক ক্রেতা জানান, ” কলা আর পেয়ারা ছাড়া তো দেশি ফল বাজারে নাই তাই বাধ্য হয়ে। কয়েকগুণ বেশি দামে বিদেশি ফল কিনতে হচ্ছে । ৩০০ টাকার নিচে কোন ফল নাই । “
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, পাইকারি বাজারে অস্থিরতা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে দাম বাড়ছে। তারা আরও জানান, রোজার আগের তুলনায় চাহিদা বাড়ায় দাম স্বাভাবিকভাবেই উপরে উঠেছে। ডিবি রোডের ফল বিক্রেতা আনিসুজ্জামান বলেন, ” আমরা খুচরা বিক্রেতা যে দামে কিনি তা থেকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ করে বিক্রি করি ।
রমজানে ফলের চাহিদা বাড়ে এজন্য দাম বেড়ে যায়”। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের গাইবান্ধা জেলার সহকারী পরিচালক পরেশচন্দ্র বর্মণ বলেন , ” রমজান উপলক্ষ্যে আমরা জেলার বিভিন্ন স্থানে বাজার মনিটরিং করছি কোন অসঙ্গতি পেলে সেখানে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
