যশোর প্রতিনিধিঃ
সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা দালালপুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আপসহীন নেতা, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাপ্তাহিক সেবা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা. এম এ করিমের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে পালনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ( ৪ নভেম্বর) বুধবার বিকাল সাড়ে চারটায় অভয়নগর থানা কমিটির উদ্যোগে নওয়াপাড়া নৌযান কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
থানা সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যশোর জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা আশুতোষ বিশ্বাস। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের থানা সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, কৃষক সংগ্রাম সমিতির থানা সহ-সভাপতি সভাপতি কৃষকনেতা জহির সরদার, সাধারণ সম্পাদক আবু সিদ্দিক, প্রচার সম্পাদক নাজিম উদ্দিন শেখ, সদস্য আবুল কাশেম, দিলিপ বিশ্বাস প্রমুখ।
সভাটি পরিচালনা করেন থানা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম আর টিটু। বক্তারা বলেন, ডা. এম এ করিম ছিলেন এদেশে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী সমাজ ব্যবস্হা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একজন ত্রিকালদর্শী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি তার জীবদ্দশায় আজীবন দেশের শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থরক্ষাকারী একটি রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রামে নিজেকে নিয়োজিত রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এ লড়াই-সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিভিন্ন রূপের সংগঠন গড়ে তুলেছেন ও সংগঠিত হয়েছেন। এরই ধারায় তিনি ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আপসহীন সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা দালালপুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আমৃত্যু এই লড়াইয়ে সম্পৃক্ত থেকে মৃত্যুবরণ করেন।
বন্ধুগণ, আজ আমরা এমন সময়ে এই বর্ষীয়ান নেতারা ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছি, যখন পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্হায় বাজার পুনর্গঠন, প্রভাব বলয় বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে প্রযুক্তিযুদ্ধ, মুদ্রাযুদ্ধ, স্হানিক ও আঞ্চলিক যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ এমনকি পারমাণবিক যুদ্ধের বিপদ গভীর থেকে গভীরতর হয়ে চলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন ও তার প্রধান প্রতিপক্ষ চীনসহ আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী অন্যায় যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি-মুদ্রাস্ফীতির কারণে দ্রব্যমীল্যের লাগামহীন উর্ধগতির ফলে পৃথিবীর দেশে দেশে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে চলেছে। এমতাবস্থায় দেশের শাসকগোষ্ঠী সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে বাংলাদেশকে যুদ্ধের সাথে যুক্ত করে সংকট আরো গভীর করে চলেছে।
এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের নিউমুরিং টার্মিনাল মার্কিন নৌ-বাহিনীর সাথে সম্পৃক্ত ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিকট ইজারা প্রদান করা হয়েছে এবং করিডোর প্রদানসহ জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল রূপের চুক্তি করে চলেছে। ফলে আগামীতে দেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকসহ সামগ্রিক সংকটের সাথে দেশ একটি সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে চলেছে।
এই অবস্থায় দেশের সকল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষ এবং দেশপ্রেমিক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, শিল্পী কবি, সাহিত্যিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। এরই ধারায় গণআন্দোলন -গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লড়াইকে অগ্রসর করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




