নিজস্ব প্রতিবেদক: অভিনব কায়দায় মিনি পিকআপ ভ্যানে করে মাদকের একটি চালান পাচারের সময় ময়মনসিংহের তারাকান্দায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) জালে ধরা পড়েছে আল-আমিন (৩৩) নামের এক কুখ্যাত মাদক কারবারি। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৯২ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ সিরাপ ‘ফেয়ারডিল নিউ’ (ফেনসিডিল জাতীয় মাদক) সহ তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে ডিএনসির নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের একটি দল। জব্দকৃত মাদক এবং পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানসহ উদ্ধার হওয়া আলামতের আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ২০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্র সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। বুধবার সকালে মাদকের বড় চালান পাচার হওয়ার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি নেত্রকোনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম অভিযান শুরু করে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিট থেকে ১০টা পর্যন্ত তারাকান্দা থানাধীন পশ্চিম তালদিঘী গ্রামে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লাল মিয়ার চায়ের দোকানের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর সন্দেহভাজন একটি টাটা মিনি পিকআপের গতিরোধ করে তল্লাশি চালান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
তল্লাশিকালে পিকআপ ভ্যানটি থেকে ১০টি প্লাস্টিকের সিনথেটিক ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৯টি ব্যাগের প্রতিটিতে ৫০টি করে এবং অপর একটি ব্যাগে ৪২টি বোতল সযতনে লুকানো ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার হয় ১০০ মিলিগ্রামের ৪৯২ বোতল (মোট ৪৯.২ লিটার) মাদক। উদ্ধারকৃত বোতলগুলোর কর্কের ওপর ‘ডাইনামিক’ লেখা রয়েছে। জানা যায়, ভারতীয় তৈরি কোডেইন ফসফেট ও ক্লোরফেনিরামিন ম্যালেট সিরাপযুক্ত এই মাদকের বাণিজ্যিক নাম ‘FAIRDYL NEW’, যা মাদকসেবীদের কাছে ফেনসিডিলের নতুন সংস্করণ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
অভিযানের সময় মাদক পাচার ও ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত টাটা এইস ইএক্স২ মডেলের পিকআপ ভ্যানটি এবং একটি ভি-ম্যাক্স বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিন নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানাধীন গাওঁকান্দিয়া ইউনিয়নের হাতিয়ারাকান্দা গ্রামের মো. মনির উদ্দিন ও রোকেয়া খাতুনের ছেলে। এলাকায় সে একজন পেশাদার ও চিহ্নিত মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত।
এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ডিএনসির উপপরিদর্শক মো. নাজমুল হুদা বাদী হয়ে আসামির বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের করেছেন। সমাজ ধ্বংসকারী মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সাধারণ মানুষ ও যুবসমাজকে রক্ষায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।




