নিজস্ব প্রতিবেদক: সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নিশ্ছিদ্র প্রহরার অংশ হিসেবে নেত্রকোনা সীমান্তে একদিনের পৃথক কয়েকটি অভিযানে দুই লাখ ৮০ হাজার ৭০০ টাকা সমমূল্যের বিভিন্ন চোরাই পণ্য জব্দ করেছে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)। নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শীতবস্ত্র, কয়লা, কাপড় ও দেশীয় রসুন উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও পরিচালক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি)।
বিজিবি সূত্র জানায়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গেই সীমান্তে শীতবস্ত্র চোরাচালানের অপতৎপরতা বেড়েছে। তবে বিজিবির কড়া নজরদারিতে ভেস্তে যাচ্ছে চোরাকারবারিদের সেই পাঁয়তারা। গতকাল (রবিবার) দিনব্যাপী পৃথক অভিযানে ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রাত পৌনে ১২টার দিকে বিজয়পুর বিওপির (বর্ডার অবজারবেশন পোষ্ট) একটি টহল দল প্রেমবাজার এলাকায় সফল অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার ১১৪৮ এমপি থেকে চারশো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পরিচালিত অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৩০টি ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়।
একই দিন সকাল ১১টা ২০ মিনিটে বিজয়পুর বিওপির আরেক অভিযানে পশ্চিম বিজয়পুর এলাকা (পিলার ১১৫০ এমপি থেকে তিনশো গজ ভেতরে) থেকে ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আরও ১০টি ভারতীয় কম্বল জব্দ হয়। এছাড়া সন্ধ্যা ৭টার দিকে লেংগুড়া বিওপির টহল দল সাতশহীদের মাজার সংলগ্ন এলাকায় (পিলার ১১৭২/১-এস থেকে তিনশো গজ ভেতরে) অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা মূল্যের চারটি ভারতীয় কম্বল জব্দ করে।
শুধু শীতবস্ত্রই নয়, বিজিবির ধারাবাহিক অভিযানে অন্যান্য চোরাই পণ্যও আটক করা হয়েছে। রবিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে মহেষখোলা বিওপির জওয়ানরা নকলাই এলাকায় (পিলার ১১৮৫/১২-এস থেকে তিনশো গজ ভেতরে) অভিযান চালিয়ে নয় হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ৪৮০ কেজি ভারতীয় কয়লা জব্দ করেন। এর আগে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে একই এলাকার কাছাকাছি (পিলার ১১৮৬ এমপি থেকে চারশো গজ ভেতরে) অপর একটি অভিযানে ১৬ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের ২৩ পিস ভারতীয় থামি কাপড় উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে, চোরাচালানের মাধ্যমে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা দেশীয় পণ্যও জব্দ করেছে বিজিবি। বিকেল ৪টার দিকে বিজয়পুর বিওপির অভিযানে জংখল নামক স্থান (পিলার ১১৪৯/৬-এস থেকে তিনশো গজ ভেতরে) থেকে ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ২৫০ কেজি দেশীয় রসুন পরিত্যক্ত অবস্থায় আটক করা হয়।
বিজিবি জানায়, অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিচালনা করা এসব অভিযানে চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি এবং সবগুলো পণ্যই মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার দেখানো হয়েছে। জব্দকৃত এসব মালামাল বর্তমানে নেত্রকোনা কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ও চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবির এমন আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ব্যাটালিয়ন সূত্র।




