নিজস্ব প্রতিবেদক: ইচ্ছে শক্তি আর নিরলস অধ্যবসায় থাকলে যে কোনো পাহাড়সম বাধাও ডিঙানো যায়, তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার অদম্য মেধাবী তরুণ নাঈমুর রহমান জয়। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ফাইভ অর্জনের মধ্য দিয়ে টানা তিনটি পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভের ‘হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করেছে সে। তার অসামান্য অর্জনে শুধু তার পরিবারই নয়, বরং আনন্দে ভাসছে পুরো দুর্গাপুরবাসী।
উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মো. বাবুল মিয়া ও নাসিমা খাতুন দম্পতির সন্তান নাঈমুর রহমান জয়। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সে দুর্গাপুরের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করেছিল। এর আগে পিএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ ফাইভ পেয়ে নিজের মেধার জানান দিয়েছিল জয়। সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার এইচএসসিতেও সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে সে উপজেলার শিক্ষাঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে।
সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর পথটি মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ ১২ বছরের শিক্ষাজীবনের পথচলাকে একটি ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ বা টিকে থাকার লড়াই হিসেবেই দেখছে জয়। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে মেধাবী এই শিক্ষার্থী বলেন, “মহান আল্লাহর রহমতে আজ আমার ১২ বছরের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সফল সমাপ্তি হলো। এটি কেবল একটি যাত্রা ছিল না, ছিল শত শত রাতের ঘুমহীন পরিশ্রম আর হার না মানা দৃঢ় মনোবল নিয়ে টিকে থাকার এক লড়াই।” তার অর্জনকে সে উৎসর্গ করেছে তার মা-বাবা, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি। আগামী দিনের প্রতিটি ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করতে সে সকলের কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেছে।
জয়ের এমন ধারাবাহিক ও ঈর্ষণীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত দুর্গাপুরের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিক্ষক, বন্ধু-স্বজন ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, জয়ের সাফল্যে পুরো দুর্গাপুর আজ গৌরবান্বিত। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সুশীল সমাজের প্রত্যাশা- পড়ালেখার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজকে আলোকিত করবে সে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার পাশাপাশি একজন আদর্শ পেশাজীবী হিসেবে জয় দুর্গাপুরকে আরও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করবে।
অদম্য এই মেধার স্ফুরণ আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে- এমনটাই বিশ্বাস দুর্গাপুরবাসীর। সকলের অন্তরনিঃসৃত দোয়া আর ভালোবাসায় জয়ের আগামী দিনের পথচলা আরও মসৃণ ও সাফল্যমণ্ডিত হোক, এখন এটিই সর্বজনীন প্রত্যাশা।




