নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক লাখ ১৭ হাজার টাকার বেশি মূল্যের সন্দেহভাজন অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দেশওয়ালি পাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী ও খাদ্যসামগ্রীসহ একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল শুক্রবার রাতে পৌরশহরের দেশওয়ালি পাড়া সাকিনস্থ এক ব্যক্তির বসতঘরে আকস্মিক তল্লাশি চালায়। বাড়ির উত্তর পাশের একটি কক্ষের ভেতর অত্যন্ত সুকৌশলে এসব পণ্য মজুত করে রাখা হয়েছিল। আবাসিক এলাকার সাধারণ বসতঘরে এমন বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্যের মজুত দেখে স্থানীয়দের মাঝেও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জব্দকৃত আলামতের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৫০০ কেজি ফুচকা, যার প্রতি কেজির মূল্য ১০০ টাকা হিসেবে আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া মজুতকৃত অবস্থা থেকে ১৮০০ পিস হারমনি সাবান (যার প্রতিটির মূল্য ২০ টাকা হিসেবে ৩৬ হাজার টাকা), ১৯০টি ১০০ মিলিলিটার বোতলের অলিভ অয়েল (প্রতিটি ৯০ টাকা হিসেবে ১৭ হাজার ১০০ টাকা) এবং ৪০টি ৩০০ মিলিলিটারের অলিভ অয়েল (প্রতিটি ২৩০ টাকা হিসেবে ৯ হাজার ২০০ টাকা) জব্দ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ১০ কেজি জিরাও উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে পুলিশ কর্তৃক জব্দকৃত এসব আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ১৭ হাজার ৩০০ টাকা।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রিয়ম সাহা নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত প্রিয়ম দুর্গাপুর পৌরশহরের দেশওয়ালি পাড়া এলাকার প্রদীপ সাহা ও ঝুমুর সাহার ছেলে।
ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, আবাসিক ভবনে কী উদ্দেশ্যে এসব মালামাল মজুত করা হয়েছিল এবং এগুলো কোনো চোরাচালান বা অবৈধ মজুতদারির অংশ কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটক আসামির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও বাজারের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




