নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরে চোরাচালান প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য ও গবাদিপশুসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরের দিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায়ে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরা কারবারি চক্র সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপারের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় এবং ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দুর্গাপুর থানা এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের তৎপরতার ফলেই চোরাকারবারিদের বড় দুটি চালান আটক করা সম্ভব হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আনা ভারতীয় তৈরি একশোটি উন্নতমানের কম্বল জব্দ করা হয়। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে আনা এসব কম্বলের আনুমানিক বাজারমূল্য এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে এক চোরাকারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, পৃথক আরেকটি সফল অভিযানে উদ্ধার করা হয় ভারতীয় ১২টি ষাঁড় বাছুর। অবৈধপথে আনা এসব গবাদিপশুর আনুমানিক বাজারমূল্য চার লাখ ৮০ হাজার টাকা। গবাদিপশু চোরাচালানের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
চোরাচালান বিরোধী এই জোরালো পদক্ষেপের পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশ আইনের ৩৪(৬) ধারায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার এই সফল অভিযানে মোট পাঁচজন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, “সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরণের চোরাচালান রোধে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজন আসামিকে আজ দুপুরে দিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দুর্গাপুর থানা পুলিশের এমন নিয়মিত ও জোরালো পদক্ষেপ সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য কমানোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের মনে ব্যাপক স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।




