কেন্দুয়া প্রতিনিধি: প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার চিরন্তন বাণী নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়ার প্রত্যয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বর্ণাঢ্য সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আয়োজিত দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সম্মাননা ও পুরস্কার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই খুদে শিল্পী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ। প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার বাইরে গিয়ে পুরো আয়োজনটি রূপ নেয় নজরুল চেতনার প্রাণবন্ত উৎসবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশে নজরুল চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন সাহিত্যিক বা সংগীতজ্ঞই ছিলেন না, তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতার মূর্ত প্রতীক। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও সংগ্রামী জীবনাদর্শ আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।” মেধা ও মননের বিকাশে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নজরুলের সাম্য ও মানবতার চেতনা ধারণ করে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও বেশি এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের অবদানের কথা স্মরণ করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, “নজরুল সম্পর্কে আমাদের গভীরভাবে জানতে হবে। তিনি ছিলেন একই সাথে প্রেমের কবি এবং দ্রোহের কবি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা ও গান সবসময়ই আমাদের সাহস জুগিয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর কালজয়ী গান আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে ব্যাপক প্রেরণা ও শক্তির সঞ্চার করেছিল।”
আয়োজনে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রহিমা আক্তার, উপজেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা ইউনুস জামান রনি, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম এবং কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সেকুল ইসলাম খান। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন খোকন এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান। এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা তাদের আলোচনায় উল্লেখ করেন, আকাশ সংস্কৃতির যুগে শেকড়ের সংস্কৃতি ও জাতীয় কবির সৃষ্টিশীলতাকে তরুণ প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত সময়োপযোগী ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় অতিথিদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণকালে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা যায়। ভবিষ্যতে নজরুল চর্চাকে কেন্দুয়ায় আরও বেগবান করার আশাবাদ ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




