নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় এক মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। খোদ ওই প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম (প্রধান শিক্ষক) মাওলানা কবির আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগে গোটা এলাকায় ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পবিত্র শিক্ষার স্থানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনৈতিক ঘটনায় হতবাক স্থানীয় মানুষজন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান খবর পেয়ে রাতেই মঙ্গলবারই দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। এরআগে, গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের বোয়ালজানা গ্রামের আতহারুল উলুম মাদ্রাসায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী মূলত নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি সে নিজ বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন বোরকা পরিহিত অবস্থায় ওই কিশোরী বোয়ালজানা মাদ্রাসায় প্রবেশ করে। এ সময় মাদ্রাসার পুকুরপাড়ে অবস্থানরত কয়েকজন যুবকের সন্দেহ হয়। তারা কৌতূহলবশত শ্রেণিকক্ষের দিকে এগিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ওই যুবকদের দাবি, কিছুক্ষণ পর তারা মুহতামিম কবির আহমেদ ও ওই কিশোরীকে দুটি ভিন্ন দিক দিয়ে তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে যেতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে (শ্রেণিকক্ষে) গেলে আপত্তিকর আলামত (কনডম) পড়ে থাকতে দেখেন, যা পুলিশের প্রাথমিক নথিতেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে আতহারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাইদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী নিজ ইচ্ছায় মাদ্রাসায় এসে ঘটনায় জড়িয়েছে।
যদিও দেশের প্রচলিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ১৪ বছর বয়সী কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর সম্মতি আইনত ধর্তব্য নয় এবং এটি সরাসরি ‘ধর্ষণ’ হিসেবেই গণ্য হয়ে থাকে।
সভাপতি সাইদুল ইসলাম আরও জানান, অভিযুক্ত মুহতামিমের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে আজ (বুধবার) জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে তাকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি অপরাধীর আইনানুগ শাস্তির পক্ষেও মত দেন।
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন নৈতিক স্খলনের খবরে স্থানীয় সুধীসমাজ, অভিভাবক ও রাজনৈতিক মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাহতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাজু ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ। পবিত্র স্থানে এমন অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’
এ প্রসঙ্গে বারহাট্টা থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী কিশোরীর সরাসরি কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
ওসি চম্পক দাম আরও জানান, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই পুলিশ তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় আইনগত পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ৎ
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নাড়া দিয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি পুলিশি পদক্ষেপ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভুক্তভোগী পরিবারটি দ্রুত আইনি সহায়তা পাবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।


