নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক কর্মসূচি মানেই কেবল স্লোগান, ব্যানার আর গাম্ভীর্য- এমন চেনা ছকের বাইরে গিয়ে ভিন্নরকম এক উৎসবের আমেজ তৈরি হলো নেত্রকোনার কলমাকান্দায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ র্যালি মুহূর্তেই যেন হয়ে উঠল বর্ণিল মঞ্চ। র্যালির সামনের সারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সেজে আসা তিন শিশু এবং ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলায় মেতে ওঠা পাঁচ বছরের ক্ষুদে এক লাঠিয়াল পুরো আয়োজনে যোগ করেছিল অনন্য মানবিক ও শৈল্পিক মাত্রা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে কলমাকান্দা উপজেলা সদরে আনন্দ র্যালির আয়োজন করে উপজেলা যুবদল। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন থেকে আসা অসংখ্য নেতাকর্মীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে শহর। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তবে সব বয়সী মানুষের সমাগমে সাধারণ পথচারী ও নেতাকর্মীদের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় শিশুরা। রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা ছাপিয়ে তাদের সরব উপস্থিতি পুরো আয়োজনকে পরিণত করে সর্বজনীন উৎসবে, যা উপভোগ করেছেন সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
র্যালির ঠিক অগ্রভাগে ছিল তিন শিশু, যাদের সাজসজ্জায় চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি। সবার কৌতূহলী দৃষ্টি আর ক্যামেরার লেন্সের সামনে তারা ছিল দারুণ উচ্ছ্বসিত। তিন শিশুর একজন অহনা আক্তার। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তার চোখেমুখে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ। মিষ্টি হেসে অহনা জানায়, “আমি খালেদা জিয়ার সাজ সেজেছি। তার মতো সাজতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। আজ এখানে অনেক মানুষ এসেছে। সবাই আমাদের ছবি তুলেছে। এটা দেখে আমার আরও বেশি ভালো লেগেছে।”
অন্যদিকে, বর্ণাঢ্য আয়োজনের আরেক বড় চমক ছিল পাঁচ বছরের শিশু আজমাইন। বাংলার আবহমান কালের ঐতিহ্যবাহী লাঠিয়াল বাহিনীর সঙ্গে সেও নেমে পড়েছিল লাঠি ঘোরানোর খেলায়। এতটুকু বয়সে নিখুঁত ছন্দে লাঠি ঘোরানোর কসরত দেখে উপস্থিত দর্শকরা রীতিমতো মুগ্ধ হয়ে যান। ছোট্ট হাতে লাঠি ঘুরিয়ে পুরো র্যালিতে দারুণ রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দেয় সে। অবাক করা দক্ষতার পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে শিশু আজমাইনের সহজ-সরল স্বীকারোক্তি, “দাদাকে দেখে লাঠিখেলা শিখছি। লাঠিখেলা করতে আমার খুব ভালো লাগে। আজ বড় র্যালিতে সবার সামনে খেলা দেখাতে পেরে আমি অনেক খুশি।”
রাজনীতি ও সাংগঠনিক আয়োজন যে কেবল নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আনন্দমুখর পরিবেশে তা শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কাছেই উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে, কলমাকান্দার এই র্যালি যেন তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। শিশুদের এমন ব্যতিক্রমী সাজ ও আজমাইনের শৈল্পিক লাঠিখেলা উপস্থিত সবার মাঝেই এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনটি হয়ে ওঠে আরও বেশি প্রাণবন্ত, আকর্ষণীয় এবং সবার স্মৃতিতে ধরে রাখার মতো সুন্দর এক মুহূর্ত।


