রুহুল আমিন,ডিমলা(নীলফামারী)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার মতির বাজার-খগারহাট সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে বেহাল দশা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় উঠে গেছে পিচ, সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।
গয়াবাড়ী ইউনিয়নের মতির বাজার ও শুটিবাড়ী হাট থেকে খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের খগারহাট হয়ে পাগলাপীর-পশ্চিম ছাতনাই আঞ্চলিক সড়কে যুক্ত হয়েছে সড়কটি। এর দুই পাশে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও কমিউনিটি ক্লিনিক। কাছেই উপজেলার একমাত্র মিমি স্টেডিয়াম। ফলে শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙাচোরা সড়কে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। বর্ষায় গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ে। কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ বাড়ার পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, সড়কটির ওপর কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ নির্ভরশীল। দ্রুত সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। কৃষক আব্দুল জলিল জানান, ভাঙাচোরা সড়কে ফসল বাজারজাত করতে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে।
আদাবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক জাকিরুল ইসলাম বলেন, গর্ত ও ভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উত্তর গয়াবাড়ী পুলেরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নয়নও সাইকেল নিয়ে চলাচলে সমস্যার কথা জানিয়ে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।
গয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন বলেন, সড়কটি কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।
ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মফিজুর রহমান বলেন, সড়কটির অবস্থা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামানও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানান।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এখন দ্রুত সংস্কারের অপেক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিলে সড়কটি আবারও নিরাপদ যাতায়াতের উপযোগী হয়ে উঠবে।


