নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে হলেও হয়নি কাবিন রেজিস্ট্রি। এরই মধ্যে স্ত্রী হয়ে পড়েন অন্তঃসত্ত্বা। আর তখনই শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, একপর্যায়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় তাকে। স্ত্রীর অধিকার ও অনাগত সন্তানের স্বীকৃতি চাইতে গিয়ে জুটলো নির্মম প্রহার ও হত্যার হুমকি। নেত্রকোনা সদরে ঘটে যাওয়া এমন অমানবিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান আসামি মো. আমিনুল ইসলামকে (২২) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
গ্রেফতারকৃত আমিনুল ইসলাম নেত্রকোনা সদর উপজেলার কয়ারআটী গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। এ মামলায় অন্য দুজন আসামি হলেন আমিনুলের বাবা ও মা।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১২টার দিকে এসআরবি-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার ও সহকারী পরিচালক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল (শনিবার) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানাধীন ভোগড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অধিযাচন পত্রের (রিকুইজিশন) ভিত্তিতে পলাতক এই আসামিকে ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। ময়মনসিংহ সদর কোম্পানির এসআরবি-১৪ এর একটি দল এবং গাজীপুর পোড়াবাড়ীর সিপিএসসি, এসআরবি-১ এর যৌথ সহায়তায় সফল অভিযানটি সম্পন্ন হয়। গ্রেপ্তারকৃত আমিনুল ইসলামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে এসআরবি-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারী ও আমিনুল ইসলামের মধ্যে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হলেও আইনি সুরক্ষার জন্য জরুরি কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়নি। বিয়ের কিছুদিন পর ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আনন্দের খবরের বদলে তার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। আমিনুল ও তার পরিবারের অন্য আসামিরা তার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
নিরুপায় হয়ে গত ১ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ওই নারী তার স্বামী আমিনুলের বাড়িতে যান এবং বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করার আকুতি জানান। স্ত্রীর ন্যায্য দাবিতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আমিনুলসহ অন্যরা। তারা ভুক্তভোগী নারীকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর জখম করে। এমনকি ঘটনা চিরতরে ধামাচাপা দিতে ওই নারী ও তার অনাগত শিশু সন্তানকে খুন করে লাশ গুম করার মতো ভয়ংকর হুমকিও দেয় আসামিরা।
নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই নারী শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নেন। তিনি নিজেই বাদী হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় আমিনুল ইসলামকে প্রধান আসামি ও তার মা-বাবকে বিবাদী করে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গত ১৪ আগস্ট নেত্রকোনা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
এসআরবি-১৪ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং চাঞ্চল্যকর মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমিনুলকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


